কিংসের বিরুদ্ধে ফিফায় আরও ২ অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা কাটাতে আরও সময় চায় আবাহনী

prothomalo bangla 2026 08 12 ycxv3xoj 7050317499901363768868123043828380178864983n
নতুন মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত

একের পর এক নিষেধাজ্ঞার বোঝা বাড়ছে বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। এত দিন ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ক্লাবটির নামের পাশে ছিল ১২টি অভিযোগ। এবার আরও ২টি অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-তে।

এর মধ্যেই ঘরোয়া লিগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের নির্ধারিত সময়ও শেষ হয়েছে গতকাল। তবে বাফুফের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, লাইসেন্সিংয়ের সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।

একই সংকটে পড়েছে আবাহনী লিমিটেড ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেনসও। আবাহনীর বিরুদ্ধে থাকা তিনটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে, তবে বাকি নিষেধাজ্ঞাটি এখনো প্রত্যাহার করাতে পারেনি দলটি। অবশ্য নতুন মৌসুমে খেলার আশা ছাড়েনি আবাহনী।

ক্লাবটির ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ বলেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁদের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। শুধু ক্লাব লাইসেন্সিং নয়, খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময়সীমাও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সত্যজিৎ, ‘১৩ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন শেষ করা খুব কঠিন। ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে মৌসুম শুরু। ফেডারেশনের প্রতি অনুরোধ থাকবে, খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের সময় আরও কয়েক দিন বাড়ানোর।’

এর আগে ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের জন্য ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল বাফুফে। পরে প্রথমে ৭ আগস্ট, পরে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

মূলত খেলোয়াড় ও কোচদের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ না করায় এসব নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে ক্লাবগুলো। বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে প্রথম নিষেধাজ্ঞা আসে গত বছরের ২৭ আগস্ট। এরপর বিভিন্ন অভিযোগে ক্লাবটির ওপর আরও ১৩টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আবাহনীর বহাল থাকা একমাত্র নিষেধাজ্ঞাটি গত বছরের ২১ নভেম্বরের। আর ফকিরেরপুল ইয়ংমেনসের দুটি নিষেধাজ্ঞা চলতি বছরের ২৪ ও ২৭ মার্চের।

ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে সংশ্লিষ্ট ক্লাব নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন করাতে পারে না। একই সঙ্গে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লাব লাইসেন্স পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নতুন মৌসুমে দল গড়া ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া—দুটিই কঠিন হয়ে যায় ক্লাবগুলোর জন্য।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মূল পথ হলো অভিযোগকারী খেলোয়াড়, কোচ বা এজেন্টের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা। কোনো জরিমানা থাকলে সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। এরপর অর্থ পরিশোধ ও সমঝোতার প্রমাণ ফিফায় জমা দিলে ডিসিপ্লিনারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা নতুন ঘরোয়া ফুটবল মৌসুমের। এরপর ২৪ আগস্ট মাঠে গড়ানোর কথা ফেডারেশন কাপের। আর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম রাউন্ড শুরু ২৮ আগস্ট। এর আগে নিষেধাজ্ঞা ও লাইসেন্সিং জটিলতা কাটিয়ে ক্লাবগুলো শেষ পর্যন্ত কীভাবে মৌসুমে নামবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Scroll to Top