
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিধিমালার খসড়া চূড়ান্তকরণ সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন করে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই নতুন বিধিমালা হতে হবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন।’ বিনিয়োগ সহজ করতে নতুন বিধিমালা প্রণয়নে তাদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সুবিধার কথা বিবেচনা করে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। উড়োজাহাজের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক মানের মেন্টেনেন্স ও রিপেয়ার ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষায় নতুন বিধি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আওতায় অপ্রত্যাহারযোগ্য নিবন্ধন বাতিল ও রফতানি অনুরোধের কর্তৃত্বপ্রদান সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান মন্ত্রী।
বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান বিমানমন্ত্রী।
সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় নতুন বিধিমালার প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।