ইনফান্তিনোর পাশে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার তিন কিংবদন্তি

brazil infantino 20260827101622

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে যখন পদত্যাগের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, তখন তার পাশে দাঁড়ালেন বিশ্ব ফুটবলের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি। ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা কাফু ও রবার্তো কার্লোসের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি হ্যাভিয়ের জানেত্তিও প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

দক্ষিণ আমেরিকার আরও কয়েকজন সাবেক তারকাও একই অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আর্জেন্টিনার এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো ও হ্যাভিয়ের পাস্তোরে। ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারা প্রায় একই ভাষায় একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইনফান্তিনো। তবে বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা সামনে আসার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

পরবর্তীতে ব্যাপক বিরোধিতার কারণে সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও থামেনি ইনফান্তিনোবিরোধী চাপ। উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফসহ বিভিন্ন কনফেডারেশন এবং একাধিক দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাবেক বেশ কয়েকজন তারকাও তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কিংবদন্তিদের সমর্থন ইনফান্তিনোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ronaldo cau 20260827101604

কাফু, ক্যাম্বিয়াসো, পাস্তোরে ও অন্যরা যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেখানে গত এক দশকে ফিফার নেতৃত্বে ফুটবলারদের ভূমিকা ও অংশগ্রহণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গত ১০ বছরে আমরা ফুটবল বিশ্বে ফুটবলারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ফিফা ও সভাপতি ইনফান্তিনোর করা কাজ প্রত্যক্ষ করেছি। এর আগে এমন প্রতিনিধিত্ব ছিল না।’

তাদের দাবি, ইনফান্তিনোর সময় খেলোয়াড়দের নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন কমিটি, প্রকল্প ও ওয়ার্কিং গ্রুপে ফুটবলারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠস্বর ফুটবলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের মতামত শোনা হয় এবং আমাদের চিন্তা, ধারণা, পরিকল্পনা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফুটবলের জন্য উপকারী অনেক উদ্যোগ তৈরি হয়েছে।’

ফুটবলের গত এক দশকের পরিবর্তন ও উন্নয়নে নিজেদের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন দক্ষিণ আমেরিকার সাবেক তারকারা। তাদের ভাষায়, ‘গত এক দশকে আমাদের খেলাটিতে যে বড় ধরনের বিবর্তন হয়েছে, আমরা সেটিকে সমর্থন করে যাব, যাতে ফুটবল যেসব দেশে খেলা হয়, সেসব দেশের মানুষের কাছে আরও বেশি পৌঁছাতে পারে এবং তাদের উপকার করতে পারে।’

ইউরোপের কিংবদন্তিদের অবস্থান বিপরীত

দক্ষিণ আমেরিকার কিংবদন্তিদের এই সমর্থনের ঠিক বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন ইউরোপের বেশ কয়েকজন সাবেক তারকা। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এমানুয়েল পেতি, রবার্ট পিরেস ও বিসেন্তে লিজারাজু এবং আইভরি কোস্টের কিংবদন্তি দিদিয়ের দ্রগবা ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন।

তারা ফুটবলে ‘প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের’ দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের ওপর এমনভাবে প্রভাব ফেলেছে যে নিজেদের স্বার্থ এবং ফুটবলের প্রকৃত কল্যাণের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা নেতৃত্ব হারিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আমাদের আর নীরব থাকার সুযোগ রাখেনি। যথেষ্ট হয়েছে।’

ফলে ইনফান্তিনোকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বের সাবেক তারকাদের মধ্যেও স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে কাফু, রবার্তো কার্লোস, জানেত্তি ও অন্য দক্ষিণ আমেরিকান কিংবদন্তিরা তার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন; অন্যদিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার কয়েকজন বড় তারকা পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।

বিতর্কের কেন্দ্রে বিশ্বকাপের স্বত্ব

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক চাপের অন্যতম কারণ বিশ্বকাপের স্বত্বকে কেন্দ্র করে তার বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা। ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হলেও এর প্রভাব পড়েছে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর। বিভিন্ন কনফেডারেশন তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং কয়েকটি পক্ষ তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

এর মধ্যেই আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ক্যামেরুন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি স্যামুয়েল ইতোও এর আগে ইনফান্তিনোর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, তিনি মনে করেন না ফিফা সভাপতি কোনো ভুল করেছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন কাফু, রবার্তো কার্লোস ও জানেত্তির মতো বিশ্বকাপজয়ী ও বিশ্বখ্যাত সাবেক ফুটবলাররা।

Scroll to Top