দুই দিন ধরে হাসপাতালের মর্গে কিশোরের লাশ, জানত না পরিবার

prothomalo bangla 2026 08 18 dgc8rxfp 715aef2a 2afc 4918 90e7 766b4befdb35
সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান

দুই দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে ছিল কিশোরের লাশ। অথচ সেই সময় ছেলেকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল পরিবার। এর মধ্যে অপহরণের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকাও নেয় একটি চক্র। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের দেওয়া একটি ছবি দেখে পরিবার জানতে পারে, মর্গে থাকা কিশোরের লাশটি তাঁদের নিখোঁজ সন্তানের।

নিহত কিশোরের নাম সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান (১৫)। সে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। সন্দীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে সে। গত শনিবার নগরের হালিশহর চুনা ফ্যাক্টরি এলাকার বাসা থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হয় শান। সেদিন রাতেই পতেঙ্গা সৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শানের মৃত্যুর ঘটনায় হালিশহর থানায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে শানের চার বন্ধুকে। পুলিশ জানায়, পাঁচ বন্ধু মিলে কোচিং শেষে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় গিয়েছিল। সেখানে বন্ধুরা মিলে পানিতে নামে। এ সময় ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যায় শান। ভয়ে দুই দিন ধরে এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানায়নি তার সহপাঠীরা।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, ‘দুই দিন আগে পতেঙ্গা থানা-পুলিশ অজ্ঞাত এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় লাশের ছবি প্রকাশ করা হয়। উদ্ধারের পর লাশটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর ফেসবুক পেজে ছবি দেখে পরিবার ও হালিশহর থানার পক্ষ থেকে আমাদের ওই কিশোরের পরিচয় জানানো হয়।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার কোচিংয়ে পরীক্ষা ছিল শানের। তবে কোচিং শেষে বাসায় ফেরেনি সে। সব দিকে খোঁজ নিয়ে তাকে না পেয়ে হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরদিন পরিবারের কাছে ফোন করে এক ব্যক্তি বলেন, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে ফিরে পেতে টাকা দাবি করা হয়। শানকে পেতে নগরের ষোলশহর এলাকায় আসতে বলেন ওই ব্যক্তি।

পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হলে শানের মামার বিকাশ নম্বর থেকে ওই নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে তারা জানতে পারেন, যে নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে সেটি লোহাগাড়া উপজেলার কারও নম্বর।

নিহতের চাচা গোফরান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দুই দিন ধরে শানকে খুঁজছি। কিন্তু পুলিশ যে লাশ মর্গে পাঠিয়েছে, সেটা যে আমাদের শানের লাশ, এই খবর আমরা পাইনি। দুই দিন ধরে আমার ভাতিজার লাশ মর্গে পড়ে ছিল। যারা অপহরণের কথা বলে টাকা নিল, তারা কারা, পুলিশকে তদন্ত করে বের করতে হবে। পুলিশ দুই দিন আগে লাশ উদ্ধার করলেও সব থানায় জানানো হলো না কেন?’

গোফরান উদ্দিন আরও বলেন, ‘শানের মামার বিকাশ নম্বর থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে। প্রথমে ষোলশহর স্টেশনে আসতে বলা হয়েছিল। পুলিশ সেখানে গিয়েও কাউকে পায়নি। পরে আরেকটি নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। সেই নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে। পরে জানা গেছে, নম্বরটি লোহাগাড়া এলাকার একজনের নামে। এসব তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।’

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, ‘শনিবার শান চার বন্ধুর সঙ্গে পতেঙ্গায় ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে সে পানিতে ভেসে যায়। পরে তারা ভয় পেয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। অপহরণের কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

Scroll to Top