
বলিউডে একটি কথা প্রচলিত আছে—প্রথম ছবিই একজন অভিনয়শিল্পীর ভাগ্য বদলে দিতে পারে। কেউ কেউ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দশকের পর দশক রাজত্ব করেন। আবার কারও ক্ষেত্রে প্রথম ছবির সাফল্যই হয়ে ওঠে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। অভিষেকেই ব্লকবাস্টার, রাতারাতি তারকা, কোটি ভক্ত—সবই পান। কিন্তু কয়েক বছর পর তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না বড় পর্দায়।
এর পেছনের কারণও একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কেউ বিয়ের পর নিজেই সরে গেছেন, কেউ ভুল সিনেমা বেছে নিয়েছেন, কারও ক্যারিয়ার থমকে গেছে দুর্ঘটনায়, আবার কেউ দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা বা পারিবারিক জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবু তাঁদের প্রথম ছবির কথা আজও বলিউডপ্রেমীরা ভুলতে পারেননি। এমন কয়েকজন অভিনেত্রীর গল্প—
ভাগ্যশ্রী
১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ মুক্তির পর ভাগ্যশ্রী রাতারাতি ভারতের সবচেয়ে আলোচিত নায়িকায় পরিণত হন। নতুন মুখ হয়েও সালমান খানের সঙ্গে তাঁর রসায়ন দর্শকের মন জয় করে। ছবিটি সে সময়ের অন্যতম বড় ব্লকবাস্টার ছিল, আর ভাগ্যশ্রী পান সেরা নবাগত অভিনেত্রীর স্বীকৃতি।
কিন্তু সাফল্যের ঠিক পরই ভাগ্যশ্রী ব্যবসায়ী হিমালয় দাসানিকে বিয়ে করেন। পরে খুব সীমিতসংখ্যক ছবিতে অভিনয় করেন। যে সময়ে তাঁর ক্যারিয়ার আরও উঁচুতে ওঠার কথা ছিল, সে সময়ই তিনি প্রায় আড়ালে চলে যান। আজও অনেকের কাছে তিনি ‘সুমন’ হিসেবেই অমর।
অনু আগরওয়াল
১৯৯০ সালে ‘আশিকি’ শুধু একটি সিনেমা ছিল না, ছিল সাংস্কৃতিক ঘটনা। ছবির গান, প্রেমের গল্প, নতুন মুখ—সব মিলিয়ে এটি ইতিহাস গড়ে। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে ছিলেন অনু আগরওয়াল। প্রথম ছবিতেই তিনি তারকা হয়ে ওঠেন।
কিন্তু পরের ছবিগুলো আর সেভাবে সফল হয়নি। এরপর ১৯৯৯ সালের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর জীবন পুরো বদলে দেয়। দীর্ঘদিন কোমায় থাকার পর অভিনয়জীবন কার্যত শেষ হয়ে যায়। একসময়ের সুপারস্টার পরে যোগব্যায়াম ও লেখালেখির দিকে মন দেন।

গ্রেসি সিং
২০০১ সালে ‘লগান’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন গ্রেসি সিং। অস্কারে মনোনীত সেই সিনেমার সাফল্যের সঙ্গে তিনিও আলোচনায় চলে আসেন। পরে ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’-এও প্রশংসিত হন।
তবু আশ্চর্যজনকভাবে গ্রেসি বলিউডে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। বড় ব্যানারের ছবির সুযোগ কমতে থাকে। ধীরে ধীরে তিনি আঞ্চলিক সিনেমা ও টেলিভিশনে মনোযোগ দেন।
ভূমিকা চাওলা
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ভূমিকা চাওলা হিন্দি ছবিতে অভিষেক করেন সালমান খানের বিপরীতে ‘তেরে নাম’-এ। ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায় আর নির্জরা চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কাটে।
কিন্তু এরপর বলিউডে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি ভূমিকা। যদিও দক্ষিণের বিভিন্ন ভাষার ছবিতে তিনি নিয়মিত কাজ করেছেন, হিন্দি ছবিতে তাঁর উপস্থিতি ক্রমেই কমে যায়।

গায়ত্রী জোশি
অনেক অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে একটি স্মরণীয় ছবি থাকে। গায়ত্রী জোশির ক্ষেত্রে সেটিই ছিল প্রথম ও শেষ।
২০০৪ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘স্বদেশ’ দিয়ে অভিষেক করেন গায়ত্রী। ছবিটি মুক্তির সময় বাণিজ্যিকভাবে খুব বড় সাফল্য না পেলেও পরে বলিউডের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্রের মর্যাদা পায়। গায়ত্রীর অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
কিন্তু এরপর গায়ত্রী আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি। শিল্পপতি বিক্রম ওবেরয়কে বিয়ে করে পুরোপুরি ব্যক্তিগত জীবন বেছে নেন। ফলে ‘স্বদেশ’-ই হয়ে থাকে তাঁর একমাত্র সিনেমা।
স্নেহা উল্লাল
‘লাকি: নো টাইম ফর লাভ’ ছবিতে সালমান খানের বিপরীতে অভিষেকের সময় স্নেহা উল্লালকে নিয়ে আলোচনার বড় কারণ ছিল তাঁর চেহারার সঙ্গে ঐশ্বরিয়া রায়ের মিল।
প্রথম ছবি স্নেহাকে ব্যাপক পরিচিতি দিলেও পরে শক্তিশালী চিত্রনাট্য পাননি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণেও নিয়মিত কাজ করতে পারেননি। পরে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় কিছু কাজ করলেও বলিউডে আর প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি।

প্রীতি ঝাংগিয়ানি
২০০০ সালে ‘মহব্বতে’ দিয়ে প্রীতি ঝাংগিয়ানির পরিচিতি তৈরি হয়। এটি ছিল বছরের অন্যতম বড় ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র। কিন্তু এত বড় ব্যানারের ছবিতে অভিনয়ের পরও তিনি একক নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। কয়েকটি ছবির পরই বলিউডে তাঁর উপস্থিতি কমে যায়।