ফুটবলারদের বিভিন্ন খেলার উন্নয়নে কাজে লাগাচ্ছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

f8ece8a5 ac79 4e64 9e7e 42d8e633b4ec mtfawkac16a7u12 20260830102105

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের প্রথম পরিচয় তিনি ফুটবলার। জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। দেশের ফুটবল ইতিহাসে যে কয়জন গোলরক্ষকের নাম শীর্ষে আছে তাদের একজন আমিনুল হক। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ যে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেই দলের সদস্যও তিনি।

ফুটবল ছিলো যার ধ্যানজ্ঞান, সেই আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এখন সব খেলার অভিভাবক। তবে ফুটবল ও ফুটবলারদের প্রতি তার যে আলাদা নজর ও দূর্বলতা থাকবে সেটা স্বাভাবিক। সব খেলার উন্নতি হোক সেটা চাইবেন মন্ত্রী, তবে মনে মনে ফুটবলের ভালোটা বেশিই চাইবেন। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই খেলা যে মিশে আছে তার রক্তে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেখলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) কাজ করার তালিকায় সাবেক ফুটবলারদের সংখ্যা নগন্য। এক কথায় ফুটবল ভবনে সাবেক ফুটবলাররা উপেক্ষিত। নির্বাচনের মাধ্যমে ৬ জন নির্বাহি কমিটিতে আছেন। এর বাইরে বাফুফেতে কাজ করার সুযোগ কম ফুটবলারেই হচ্ছে। এক কথায় বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তারা কখনই সাবেক ফুটবলারদের মূল্যায়ন করেননি। দেশের তারকা ফুটবলারদের ডেকে খেলাটির উন্নয়নে কাজ করতে বলেননি।

বাফুফের নির্বাহী কমিটি ২১ সদস্যের। যেখানে তারকা ফুটবলার আছেন ইকবাল হোসেন, গোলাম গাউস, ছাইদ হাছান কানন, বিজন বড়ুয়া ও সাইফুর রহমান মনি। নির্বাহী কমিটির বাইরে বাফুফের আছে ১১ টি স্ট্যান্ডিং কমিটি ও ৭ টি অ্যাডহক কমিটি। এই সব কমিটিতে সাবেক ফুটবলাররা নেই বললেই চলে। ছাইদ হাছান কাননের নেতৃত্বাধীন অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল লিগ কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন কায়সার হামিদ। শাহিন হাসানের নেতৃত্বাধীন বিচ সকার কমিটিতে আছেন মামুনুল ইসলাম, গোলাম গাউসের নেতৃত্বাধীন কম্পিটিশন কমিটিতে আছেন আতাউর রহমান আতা, শহীদ হোসেন স্বপন, বরুন বিকাশ দেওয়ান, জালাল উদ্দিন, নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর নেতৃত্বাধীন ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে আছেন সফিকুল ইসলাম মানিক, সাব্বির আহমেদ আরিফের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর ফুটবল লিগ কমিটিতে আছেন আমের খান, আমিরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বাধীন মিডিয়া কমিটিতে আছেন জাহিদ হাসান এমিলি, কামরুল হাসান হিল্টনের নেতৃত্বাধীন টেকনিক্যাল কমিটিতে আছেন মাসুদ রানা ও মিজানুর রহমান ডন। বাফুফের নির্বাহী কমিটির বাইরে এই কয়জন মাত্র ফুটবলারকে রাখা হয়েছে বিভিন্ন কমিটিতে।

বাফুফের বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং ও অ্যাডহক কমিটি ভর্তি অচেনা মুখ দিয়ে। যাদের ক্রীড়ার সাথে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা বলতে পারেন না অনেকে। কয়েকটি কমিটিতে তো বাফুফের নির্বাহী কমিটির কোনো সদস্যই নেই। ফুটসাল লিগ কমিটির ১০ সদস্যের। সবাই বাইরের। বাফুফের অনেক সদস্যই আফসোস করে বলেন, এই কমটি বাফুফের নিয়ন্ত্রণেই নেই।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক তাই তো সাবেক কিছু ফুটবলারকে অন্য খেলার উন্নয়নে কাজে লাগাতে বিভিন্ন কমিটিতে রেখেছেন। দেশের তৃতীয় বড় খেলা হিসেবে পরিচিত হকির নির্বাহী কমিটিতে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক ফুটবলার মিজানুর রহমান ডনকে। হ্যান্ডবলের সহসভাপতি সাবেক ফুটবলার কোচ আলফাজ আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ফুটবলার এনামুল হক, সদস্য সাবেক ফুটবলার মুরাদ আহমেদ মিলন। টেনিস ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ফুটবলার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, দাবা ফেডারেশনের সদস্য সাবেক ফুটবলার জুমরাতুল মিঠু, ফেন্সিং ফেডারেশনের সহসভাপতি মাসুদ রানা ও যুগ্ম সম্পাদক আরমান আজিজ, সাইক্লিং ফেডারেশনের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার শাহাজ উদ্দিন টিপু, ভারোত্তোলনের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার মোহাম্মদ সুজনকে, বক্সিং ফেডারেশনের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সাবেক ফুটবলার জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা ও জামাল হোসেনকে। কুস্তির সহসভাপতি সাবেক ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু। তিনি অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় খোখো ফেডারেশনেও ছিলেন।

যে যেই ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড় হোন না কেন, সবারই পরিচয় তারা অ্যাথলেট। ক্রীড়া উন্নয়নের প্রাথমিক যে ধারণা দরকার তা আছে সব খেলার খেলোয়াড়দেরই। দায়িত্ব যখন সংগঠক হিসেবে তখন কে কোন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড় তা মূখ্য না। বাফুফে যেমন, খেলার বাইরের অন্য জগতের মানুষ এনে ঢালওভাবে ফুটবল উন্নয়নের দায়িত্ব দিয়েছে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সেটা করেননি। তিনি সংগঠকদের সাথে সাবেক ফুটবলারদের সেই খেলার উন্নয়নে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ফুটবলাররা যখন ফুটবলের সংস্থা বাফুফেতে মূল্যায়িত হননা, তখন তাদের মুল্যায়নের চেষ্টা করেছেন তাদেরই কারো সতীর্থ, কারো বড় ভাই এবং কারো ছোট ভাই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

Scroll to Top