মেসি নাকি কেইন- ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে জার্মান কিংবদন্তির পছন্দ কে?

ballon 20260819132022

২০২৬ ব্যালন ডি’অরের লড়াই ধীরে ধীরে জমে উঠছে। আগামী ২৬ অক্টোবর পুরস্কারটি কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে এখন থেকেই চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় একাধিক তারকা থাকলেও লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপে ও লামিনে ইয়ামালের নাম ঘুরেফিরে আসছে সবচেয়ে বেশি।

এই বিতর্কে এবার নিজের মতামত জানিয়েছেন জার্মান ফুটবলের কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস। আর তার পছন্দের নামটি হয়তো অনেকের কাছেই কিছুটা চমক জাগাতে পারে। মেসি, এমবাপে কিংবা ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ম্যাথাউসের চোখে এবারের ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার হ্যারি কেইন।

জার্মানির সাবেক এই তারকা মনে করেন, পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে কেইনই অন্যদের তুলনায় এগিয়ে। শুধু কোনো একটি ম্যাচ, টুর্নামেন্ট কিংবা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত দিয়ে নয়; বরং পুরো বছরজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই ব্যালন ডি’অর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে কেইনের মৌসুমটিকে অসাধারণ হিসেবে দেখছেন ম্যাথাউস। ইংলিশ স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দুটি ঘরোয়া শিরোপা জয়ের বিষয়টিও তার পক্ষে বড় যুক্তি। তবে ম্যাথাউসের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- পুরো মৌসুমে কেইনের পারফরম্যান্সে বড় কোনো ছন্দপতন দেখা যায়নি।

অর্থাৎ, মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ধরনের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন কেইন। গোল করার পাশাপাশি দলের আক্রমণভাগে তার প্রভাবও ছিল নিয়মিত। এই ধারাবাহিকতাই তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন ম্যাথাউস।

তবে কেইনের সঙ্গে মেসির তুলনা এড়ানো সম্ভব নয়। আর্জেন্টাইন মহাতারকাও এবার ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় রয়েছেন। ইন্টার মিয়ামির হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপেও দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যাও ম্যাথাউসের আলোচনায় এসেছে।

তবে মেসির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন জার্মান কিংবদন্তি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর সঙ্গে তুলনীয় নয়। ফলে মেসির লিগ পারফরম্যান্সকে ইউরোপের বড় লিগে খেলা ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে একইভাবে মূল্যায়ন করতে চান না তিনি।

বিশ্বকাপেও মেসির দুটি পেনাল্টি মিস করার বিষয়টি ম্যাথাউসের বিশ্লেষণে এসেছে। যদিও মেসির সামগ্রিক পারফরম্যান্স যে অসাধারণ ছিল, সেটি অস্বীকার করেননি তিনি।

লামিনে ইয়ামালকেও ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী হিসেবে দেখছেন ম্যাথাউস। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জেতা এবং পরে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব ইয়ামালের পক্ষে বড় যুক্তি। কিন্তু শুধু দলীয় সাফল্যের ভিত্তিতে তাকে ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার হিসেবে এগিয়ে রাখতে নারাজ ম্যাথাউস।

তার মতে, ইয়ামাল দুর্দান্ত খেললেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে এমন বিশাল ব্যবধান তৈরি করতে পারেননি, যা তাকে বাকি প্রার্থীদের থেকে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে দেবে।

কিলিয়ান এমবাপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের হিসাব করেছেন ম্যাথাউস। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব রয়েছে এমবাপ্পের। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারাটা তার প্রার্থিতায় কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন জার্মান কিংবদন্তি।

জুদ বেলিংহামের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি দিয়েছেন তিনি। ইংলিশ মিডফিল্ডার ব্যক্তিগতভাবে আলো ছড়ালেও দলীয় সাফল্য ও পুরো মৌসুমের ধারাবাহিকতার বিচারে কেইনের চেয়ে এগিয়ে রাখতে পারছেন না ম্যাথাউস।

তবে হ্যারি কেইনের প্রার্থিতার দুর্বলতাও স্বীকার করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেননি। একইভাবে বায়ার্ন মিউনিখকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও পৌঁছাতে পারেননি তিনি। ব্যালন ডি’অরের মতো পুরস্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মঞ্চে পারফরম্যান্স ও দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি কেইনের বিরুদ্ধে বড় যুক্তি হতে পারে।

কিন্তু ম্যাথাউসের কাছে সেই দুর্বলতাও কেইনকে পছন্দ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তার মতে, বড় দুটি ফাইনালে না ওঠার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও পুরো মৌসুমে কেইনের অসাধারণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সকে সেটি ছাপিয়ে যেতে পারে না।

‘আমার কাছে কেইনই অন্য সবার চেয়ে বেশি ব্যালন ডি’অরের যোগ্য’- ম্যাথাউসের এই মন্তব্যই মূলত এবারের আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

কারণ ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে- পুরো মৌসুমের ধারাবাহিকতা, নাকি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো সবচেয়ে বড় মঞ্চে পারফরম্যান্স- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ম্যাথাউসের অবস্থান অবশ্য পরিষ্কার। তার চোখে এক-দুটি বড় ম্যাচের ঝলক নয়, পুরো মৌসুমজুড়ে নিজের মান ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই বিচারে মেসি, এমবাপ্পে কিংবা ইয়ামালকে পেছনে ফেলে হ্যারি কেইনই ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার।

তবে পুরস্কারের ঘোষণা আসতে এখনো সময় আছে। আগামী ২৬ অক্টোবর চূড়ান্ত ফল জানা যাবে। তার আগে প্রার্থীদের পারফরম্যান্স, পরিসংখ্যান ও দলীয় সাফল্য নিয়ে বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Scroll to Top