শরিফুলের ফাইফারে হাঁসফাঁস করছে অস্ট্রেলিয়াও

shoriful1 20260822130124

শরিফুল ইসলামের আগুনে বোলিংয়ে একের পর এক উইকেটে হারাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করে ফেলেছেন তিনি। তার সেরা বোলিং ছিল ২৮ রানে ৩ উইকেট। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে পেয়ে দারুণভাবে জ্বলে উঠলেন তিনি। অসিদের ৮ উইকেটের মধ্যে একাই ৬ উইকেট তুলে নিলেন তিনি।

শরিফুলের তোপে ১৪৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি ২ উইকেট নিলেন তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ক্যামেরন গ্রিন বিপদ হয়ে আছেন এখনও।

এ রিপোর্ট লেখার সময় অস্ট্রেলিয়ার রান ৩৩.১ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৮। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার লিড দাঁড়িয়েছে ৮৪ রানের। ক্যামেরন গ্রিন ব্যাট করছেন ৪৫ রান নিয়ে।

বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করার পর ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। তবে তাদেরকে শুরুতেই চেপে ধরেন তাসকিন আহমেদ এবং শরিফুল ইসলাম। যদিও, তাদের ফাঁস থেকে ধীরে ধীরে দলকে বের করে আনার চেষ্টা করছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ। ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গে নিয়ে ৭৭ রানের অনবদ্য একটি জুটি গড়েন স্মিথ।

তবে, দলীয় ১১৮ রানের মাথায় স্মিথকে ব্যক্তিগত ৪২ রানের মাথায় এলবিডব্লিউর শিকার করে সাজঘরে ফেরত পাঠান শরিফুল ইসলাম। এরপর অস্ট্রেলিয়নাদের আর দাঁড়াতেই দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। অ্যালেক্স ক্যারেকে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ক্যারে করেন ৫ রান।

এরপর শরিফুলের তোপে দিশেহারা হয়ে যায় বিউ ওয়েবস্টার এবং প্যাট কামিন্স। ওয়েবস্টারকে আউট করেন এলবিডব্লিউতে। গোল্ডেন ডাক মারেন তিনি। প্যাট কামিন্স খেলেন ২ বল। তিনি ব্যাটের কিনারায় লাগিয়ে বল জমা দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। কামিন্সকে ফিরিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ফাইফার নিশ্চিত করেন শরিফুল।

এরপর মিচেল স্টার্ককেও বোল্ড করেন শরিফুল। স্টার্ক করেন ১ রান। শেষ দিকে ১৮ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার অলআউট হওয়া ঠেকান ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়ন।

শুরুতে একই ওভারে ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে বেধে রাখার স্বপ্ন দেখান শরিফুল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ করার কারণে লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া।

এবাদত হোসেনকে বাদ দিয়ে শরিফুল ইসলামকে কেন একাদশে নেওয়া হলো, তা দারুণভাবে বুঝিয়ে দেন এই বাঁ-হাতি পেস বোলার। মাত্র ৬৪ রানের পুঁজি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেন বাংলাদেশের পেসাররা।

বিশেষ করে তৃতীয় বোলার হিসেবে বোলিংয়ে এসেই নিজের প্রথম ওভারে দুই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারকে বোল্ড করেছেন শরিফুল ইসলাম। ফিরিয়ে দেন ট্রাভিস হেড এবং মার্নাস লাবুশেনকে। তার আগে ম্যাট রেনশকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ।

ডারউইন টেস্টে জ্যাক ওয়েদারাল্ড ভালো ব্যাটিং করেননি। যে কারণে ১০ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরিয়ে আনা হয় ম্যাট রেনশকে। ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংকে ধুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে ৬৪ রানে অলআউট করার পর ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো করেনি অস্ট্রেলিয়াও।

দলীয় ২২ রানের মাথায় স্বাগতিকদের প্রথম উইকেট তুলে নিলেন টাইগার বোলাররা। ম্যাট রেনশকেই ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে তাসকিনের বলে ব্যাটের প্রান্ত ছুঁয়ে ক্যাচ চলে যায় থার্ড স্লিপে তানজিদ তামিমের হাতে। অনায়াসেই বলটি ধরে ফেলেন তামিম। ১০ বল খেলে ব্যক্তিগত ৮ রানে আউট হয়ে যান ম্যাট রেনশ।

নিজের ওভারের দ্বিতীয় বলেই ইনসুইঙ্গার বলটি হেডের উরুর সাথে লেগে গিয়ে আঘাত করে স্ট্যাম্পে। ওভারের পঞ্চম বলে লাবুশেন বুঝতেই পারেননি বল কোনদিকে যাচ্ছে। কিন্তু পরে দেখে স্ট্যাম্প উপড়ে গেছে। ট্রাভিস হেড ২২ রান করলেও লাবুশেন করেন মাত্র ৪ রান।

Scroll to Top