আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পথে ফিফা

prothomalo bangla 2026 07 20 vnr10d05 2026 07 19t220701z780823281up1em7j1pfn2trtrmadp3soccer worldcup esp arg
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে এভাবেই স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের পর দলটির খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংর্ঘষে জড়ান আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। এই ঘটনাসহ টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা আরও কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফিফা।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিষয়ক একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফাইনালে ১–০ গোলে হারের পর স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আর্জেন্টিনার একাধিক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্য সংঘর্ষে জড়ান। এ নিয়ে সপ্তাহব্যাপী তদন্ত চালায় ফিফা।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফিফা শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ফিফা শৃঙ্খলাবিধি কমিটি যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।’

ফাইনালে শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা উদ্‌যাপনের জন্য মাঠে ছুটে গেলে তাদের মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তাঁর মুখেও আঘাত করেন। পাশাপাশি স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকেও আঘাত করেন পারেদেস।

প্রসিকিউটরের সুপারিশের ভিত্তিতে ফিফা এখন আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মলিনার বিরুদ্ধে দুটি, লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তদন্ত করবে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারার আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

prothomalo bangla 2026 07 26 31iyzbow 21
ওলমোকে ঘুষি মারছেন আয়ালা
ভিডিওর স্ক্রিনশট থেকে

মলিনা ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারায় খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী একটি অভিযোগেও শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। একই অভিযোগ আনা হয়েছে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও।

ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অপরাধে খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের অন্তত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হতে পারে। সংঘর্ষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া একাধিক ম্যাচে বিভিন্ন ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাবিষয়ক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলার চেতনাবিরোধী কার্যক্রম (১৩ নম্বর ধারা), দলের অসদাচরণ (১৪ নম্বর ধারা), বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ (১৫ নম্বর ধারা) এবং ম্যাচে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার নিয়ম ভঙ্গ (১৭ নম্বর ধারা)।

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগগুলো হলো বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু করা, দল ও দর্শকদের অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং দর্শকদের মাঠে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্ব দাবি করে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’

ফিফা জানিয়েছে, খেলাধুলার কোনো আসরকে খেলাধুলাবহির্ভূত প্রদর্শনী বা প্রচারের জন্য ব্যবহার করলে তাতে শৃঙ্খলাবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হতে পারে। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের আগে ফুটবলাররা একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।

Scroll to Top