১৫০ কেজি থেকে ওজন কমাতে গিয়ে যে শিক্ষা হলো

prothomalo bangla 2026 08 02 kp7hagbj 747db021 a8f5 4039 9b08 dc85749f6a73
অর্জুন কাপুর আগেও একাধিকবার জানিয়েছেন, ১৬ বছর বয়সে তাঁর ওজন ছিল প্রায় ১৫০ কেজি। বলিউডে অভিষেকের আগে প্রায় চার বছর কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ৫০ কেজির মতো ওজন কমান

বলিউড অভিনেতা অর্জুন কাপুর দীর্ঘদিন ধরেই নিজের স্থূলতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ওজন কমানোর সংগ্রামের কথা খোলামেলাভাবে বলে আসছেন। এবার তিনি জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি শরীরে নয়, বরং মানসিকতায় এসেছে। একসময় সিনেমার প্রয়োজনে বা দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে শরীরচর্চা করলেও এখন তিনি নিজের সুস্থতা ও মানসিক শান্তির জন্যই ব্যায়াম করেন।
সম্প্রতি এস্কোয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন বলেন, তিনি আর নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করেন না; বরং নিয়মিত জীবনযাপন, থেরাপি এবং আত্মযত্নই এখন তাঁর জীবনের মূল ভিত্তি।

‘আমার শরীর অন্যদের মতো কাজ করে না’
অর্জুন বলেন, অনেকেই যে পরিবর্তন তিন মাসে আনতে পারেন, তাঁর ক্ষেত্রে তা হতে ছয় মাস লেগে যায়। একসময় এ নিয়ে হতাশা কাজ করলেও পরে তিনি উপলব্ধি করেন, অন্যের সময়সীমা দিয়ে নিজের সাফল্য মাপা ঠিক নয়।
তাঁর ভাষায়, আগে প্রতিটি সিনেমার আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওজন কমানোর চাপ থাকত। সেই চাপ শরীরচর্চার আনন্দই নষ্ট করে দিত।
‘আগে ভাবতাম, তিন মাস পর সিনেমার শুটিং শুরু হবে, তাই তার আগেই আমাকে সেরা দেখাতে হবে। এই চাপের কারণে ফিটনেস আর উপভোগ্য থাকত না; বরং শরীরও যেন সেই চাপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাত,’ বলেন অর্জুন।

prothomalo bangla 2026 08 02 vrlj5zdb arjunkapoor 1783265818 3934639241553953771 1325895986
অর্জুন কাপুর। অভিনেতার ইনস্টাগ্রাম থেকে

৫০ কেজি কমিয়েও আবার বেড়েছিল ওজন
অর্জুন জানান, গত কয়েক বছরে তিনি প্রায় ৫০ কেজি ওজন কমিয়েছেন। এরপর কিছুটা ওজন আবার বেড়েছিল। পরে আরও প্রায় ২০ কেজি কমাতে সক্ষম হন।
অর্জুনের মতে, অভিনেতা হওয়ার পর দর্শকের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপনের চাপ থেকেই আবার ওজনের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়।

‘এই বছর ফিটনেসের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। শুধু নিজের জন্যই শরীরচর্চা করেছি। আর সেটাই সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে,’ বলেন অর্জুন।

‘না’ বলতে শেখাটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

অর্জুনের মতে, সুস্থ জীবনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো প্রয়োজন হলে ‘না’ বলতে শেখা।
অর্জুন বলেন, আগে নিজের সময়ের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকায় মনে হতো এটি স্বাধীনতা। কিন্তু পরে বুঝেছেন, অতিরিক্ত স্বাধীনতা অনেক সময় শৃঙ্খলাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‘যখন ইচ্ছা ঘুম থেকে ওঠা, যখন ইচ্ছা কাজ করা—এসব ধীরে ধীরে অলসতায় পরিণত হয়,’ বলেন অর্জুন।

এ কারণেই অর্জুন এখন সকালেই শরীরচর্চা করেন। তাঁর ভাষায়, সকালে ব্যায়াম করলে পুরো দিনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ছন্দ তৈরি হয় এবং পরে কাজ বা সামাজিক ব্যস্ততার মধ্যেও মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

prothomalo bangla 2026 08 02 6u740t04 esquireindia 1785504600 3953282231318530959 66649705728

থেরাপি এখন আর বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই’
শুধু শরীরচর্চা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন অর্জুন। ‘থেরাপি এখন আমার জীবনের এমন একটি অংশ, যা কোনোভাবেই বাদ দিই না,’ বলেন তিনি। তিনি জানান, এখন একা সময় কাটাতে আর ভয় লাগে না। বন্ধু, বোন এবং নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যে তিনি মানসিক ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন।
এ ছাড়া গত এক বছরে অর্জুন কাজের বাইরে শুধু নিজের আনন্দের জন্যও ভ্রমণ করেছেন। আমস্টারডাম, ভিয়েনা, ভেনিস, লন্ডন, গোয়া, দেরাদুনসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এসেছেন। আগে ছুটি নেওয়াকেই বিলাসিতা মনে হলেও এখন প্রয়োজন হলে ১০ দিনের জন্যও কাজ থেকে দূরে থাকতে পারেন।
১৬ বছর বয়সে ওজন ছিল ১৫০ কেজি

অর্জুন কাপুর আগেও একাধিকবার জানিয়েছেন, ১৬ বছর বয়সে তাঁর ওজন ছিল প্রায় ১৫০ কেজি। বলিউডে অভিষেকের আগে প্রায় চার বছর কঠোর পরিশ্রম করে তিনি ৫০ কেজির মতো ওজন কমান।

গত বছর এক অনুষ্ঠানে অর্জুন বলেছিলেন, ‘৫০ কেজি ওজন কমাতে আমার চার বছর লেগেছে। এটি যতটা শারীরিক লড়াই ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল মানসিক লড়াই।’
তরুণদের উদ্দেশে অর্জুনের বার্তা ছিল, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা হওয়া দুর্বলতার নয়, বরং শক্তির পরিচয়।

‘স্থূলতা শুধু ওজনের সমস্যা নয়’
এর আগে বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন বলেছিলেন, তাঁর স্থূলতা কেবল অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা ছিল না; এটি দীর্ঘদিনের একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা।
অভিনেতার মতে, বলিউডে টিকে থাকার চাপ, শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ এবং সব সময় নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা অনেক সময় মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

অর্জুনের কথায়, ‘এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রাসঙ্গিক থাকার চাপ অনেক বেশি। বাইরে থেকে হয়তো হাসিমুখে থাকতে হয়, কিন্তু ভেতরে–ভেতরে মানুষ ভেঙে পড়তে পারে। আমার ক্ষেত্রেও তা হয়েছে, আরও অনেকের ক্ষেত্রেই হয়।’

অর্জুনের বিশ্বাস, ফিটনেস মানে শুধু ওজন কমানো নয়; বরং শরীর ও মনের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ভারসাম্য তৈরি করা। আর সেই পথেই এখন হাঁটছেন তিনি।

Scroll to Top