সার্ফিং প্রতিযোগিতায় কুকুর

prothomalo bangla 2026 08 04 1nv8huaz 3e7f47ba 0444 4d5a 8d12 6fd6150658e7
ওয়ার্ল্ড ডগ সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দুটি কুকুর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নর্দান ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সৈকতে গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দারুণ এক প্রতিযোগিতা। শতাধিক কুকুর ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতার নাম ‘ওয়ার্ল্ড ডগ সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপ’। ক্যালিফোর্নিয়ায় কয়েক বছর ধরে নিয়ম করে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

গত শনিবার কয়েক শ দর্শক উল্লাস করতে করতে কুকুরদের সার্ফিং প্রতিযোগিতা দেখেছেন, হাততালি দিয়েছেন।

ছোট স্প্যানিয়েল থেকে শুরু করে বড় ল্যাব্রাডর—বিভিন্ন জাতের কুকুর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কতক্ষণ তারা সার্ফবোর্ডে টিকে থাকতে পারে, কত বড় ঢেউ সামলাতে পারে এবং সার্ফিংয়ের সময় তাদের আত্মবিশ্বাস কেমন—এসবের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করা হয়।

১০ বছর ধরে সান ফ্রান্সিসকো থেকে প্রায় ১৪ মাইল (২২ কিলোমিটার) দক্ষিণে অবস্থিত প্যাসিফিকা শহরে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পোষা প্রাণী দত্তক নেওয়ার একটি কর্মসূচির অধীনে মানুষকে পোষা প্রাণী দত্তক নিতে উৎসাহিত করতে এবং স্থানীয় প্রাণিকল্যাণমূলক সংস্থাগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

রঙিন লাইফ জ্যাকেট পরে কুকুরগুলো তাদের সার্ফবোর্ডে প্রস্তুত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিটি কুকুরের সঙ্গে একজন সহায়তাকারী মানুষ থাকেন। তিনি উপযুক্ত ঢেউ বেছে নেন, যেন সার্ফবোর্ডে দাঁড়িয়ে থাকা কুকুরটি চমৎকারভাবে ঢেউয়ের ওপর ভেসে তীরে পৌঁছে যেতে পারে।

প্রতিবার কোনো কুকুর সফলভাবে ঢেউয়ের ওপর ভেসে সার্ফিং সম্পন্ন করলে দর্শকেরা জোরে করতালি দেন এবং উল্লাসধ্বনি করেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার হান্টিংটন বিচের বাসিন্দা সোফিয়া সাডলোস্কি বলেন, তাঁর মিনিয়েচার পিনশার জাতের কুকুর ‘রাস্টি’ যখন একেবারে ছোট্ট বাচ্চা ছিল, তখন মজার কিছু ছবি তোলার জন্য তিনি প্রথম সেটিকে নিজের সার্ফবোর্ডে দাঁড় করান।

সাডলোস্কি বলেন, ‘তারপর…সে আর বোর্ড থেকে নামতেই চাইত না। আমি তাকে সৈকতে নিয়ে গেলাম, একটি ঢেউয়ের ওপর তুলে দিলাম, আর সে সেটার ওপর চড়েই সার্ফিং করে ফেলল।’

ছোট, মাঝারি ও বড়—তিনটি আকারের কুকুরগুলোকে আগে আলাদা ভাগে ভাগ করে প্রাথমিক পর্বের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা হওয়া প্রতিযোগীরা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়।

দিনভর এই আয়োজনে আরও নানা বিভাগে প্রতিযোগিতা হয়েছে। যেমন একাধিক কুকুর এক বোর্ড, মানুষ ও কুকুর একই সার্ফবোর্ড ভাগাভাগি করে সার্ফিং করেছে।

রাস্টির লাইফ জ্যাকেটটি ছিল সবুজ রঙের, তার ওপর পশুর চামড়ার নকশা করা। পিঠের ওপর একটি অংশ হাঙরের পাখনার মতো উঁচু হয়ে ছিল। আর তার চোখে থাকা গগলস দেখে মনে হচ্ছিল, বাকি প্রতিযোগীদের চ্যালেঞ্জ জানাতে সে পুরোপুরি প্রস্তুত।

সাডলোস্কি জানান, মাত্র চার মাস বয়সেই রাস্টি তার প্রথম সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

সাডলোস্কি বলেন, ‘ওর বয়স তখন চার মাস ছিল, সে তৃতীয় হয়েছিল। তার পর থেকেই আমরা সার্ফিং করছি। আমরা এটার প্রেমে পড়ে গেছি।’

Scroll to Top