ইউজিসির ১০ কোটি টাকার আবাসিক এলাকায় ফাঁকা তিন ডুপ্লেক্স, নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ

image

প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আবাসিক এলাকা। সেখানে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য বানানো তিনটি ডুপ্লেক্স বাড়ির দুটি ২০১৫ সাল থেকে এবং একটি ২০১০ সাল থেকে খালি পড়ে থেকে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব বাড়িতে না থেকে কর্মকর্তারা বাড়িভাড়ার ভাতা নিয়েছেন। বাড়িগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও মূল্যবান এই সম্পদ কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই ইউজিসির।

মিরপুর ১৪ নম্বরের এই আবাসিক এলাকায় পাশাপাশি থাকা ৩টি ডুপ্লেক্স বাড়ির ১টি চেয়ারম্যানের জন্য এবং ২টি সদস্যদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সদস্যদের বাড়ি দুটিতে ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ১০ জন সদস্য বসবাস করেছেন। এর পর থেকে বাড়ি দুটি খালি পড়ে আছে। আর চেয়ারম্যানের জন্য তৈরি বাড়িটিতে কোনো চেয়ারম্যান কখনো বসবাস করেননি। ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে একজন কর্মকর্তা ছিলেন। এরপর সেটিও খালি পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বাড়িগুলোর দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। লোহার গ্রিল ও জানালায় মরিচা ধরেছে। দেয়ালে জমেছে শেওলা। কয়েক বছর আগে ভেঙে যাওয়া মূল ফটকের লোহার দরজাগুলোরও আর হদিস নেই।

১০ কোটি টাকায় আবাসিক এলাকা

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে মিরপুর ১৪ নম্বরে প্রায় ৩ একর জায়গার ওপর ইউজিসির আবাসিক এলাকার নির্মাণকাজ শেষ হয়। আবাসিক এলাকাটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা। ইউজিসির প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৬৭ জন ৯টি ভবনে সেখানে আবাসনের সুবিধা পান। ভবনগুলোর কোনোটি পাঁচতলা, কোনোটি তিনতলা করে। এখানেই চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য তিনটি ডুপ্লেক্স বাড়ি তৈরি করা হয়। চেয়ারম্যানের বাড়িটির আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বর্গফুট। সদস্যদের জন্য দুটি বাড়ি, প্রতিটি বাড়ির আয়তন প্রায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুট। অর্থাৎ বড় আয়তনের তিনটি বাড়ি তৈরি করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলোর ব্যবহার নেই।

২০১৫ সালের পর সদস্যদের বাড়িতে কেউ থাকেননি

ইউজিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, সদস্যদের জন্য তৈরি দুটি বাড়িতে ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ১০ জন সদস্য বসবাস করেছেন। ২০১৫ সালের পর থেকে বাড়ি দুটি খালি। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের জন্য তৈরি বাড়িতে কোনো চেয়ারম্যান কখনো বসবাস করেননি। তবে ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে একজন কর্মকর্তা বসবাস করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর সেটিও খালি পড়ে আছে।

দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকায় বাড়িগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও হয়নি ঠিকমতো। এখন সেগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। চেয়ারম্যানের জন্য ঢাকার ধানমন্ডিতেও একটি বাসভবন রয়েছে। তবে ৮ বছর ধরে প্রায় ২২ কাঠা জায়গার ওপর নির্মিত এই ভবনও অব্যবহৃত পড়ে আছে। ঝুঁকি বিবেচনায় এখন সেই ভবন ব্যবহার করা নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী বাড়িগুলো ব্যবহার নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে ইউজিসি।

সরেজমিন যা দেখা গেছে

গত ১৮ জুলাই ইউজিসি আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাশাপাশি থাকা তিনটি ডুপ্লেক্স বাড়ির চারপাশ অনেকটাই নীরব। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় বাড়িগুলোর অবস্থা এখন জরাজীর্ণ। তিনটি বাড়ির সামনে আগাছা ও ঝোপঝাড় বেড়ে উঠেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে শেওলা জমেছে। বাড়িগুলোর ভাঙাচোরা দরজা-জানালা দেখেই বোঝা যায়, এখানে অনেক দিন ধরে কেউ থাকেন না। কয়েক বছর আগে বাড়ি তিনটির মূল ফটক ভেঙে গেছে। ভেঙে যাওয়া লোহার দরজাগুলোরও কোনো হদিস নেই। লোহার গ্রিল ও জানালায় জং ধরেছে। বাড়িগুলোর ভেতরে তেমন কোনো আসবাবপত্রও নেই। একসময় ইউজিসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের থাকার জন্য তৈরি করা এসব বাড়ি এখন যেন পরিত্যক্ত স্থাপনা। আশপাশে ইউজিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন থাকলেও তিনটি ডুপ্লেক্স বাড়ির চেহারা আলাদা—ব্যবহারের চিহ্ন নেই, নেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ছাপও।

একই সময়ে নির্মিত হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবন ভালো আছে। সেখানে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বসবাসও করছেন। যেগুলো পুনরায় বসবাস উপযোগী করতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Scroll to Top