ক্লাবের প্রতি মেসির দায়বদ্ধতা দেখে মুগ্ধ ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো

messi casemiro 20260813142925

মাঠে ফেরার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না, তবু দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ইন্টার মিয়ামির হয়ে মাঠে নামার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন লিওনেল মেসি। বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেও মেসির এমন সিদ্ধান্ত সতীর্থদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো তাই মেসিকে ‘উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে বাবা হোর্হে মেসিকে হারান লিওনেল মেসি। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে আর্জেন্টিনায় যাওয়ার পর বুধবার ইন্টার মিয়ামির হয়ে লিগস কাপের ম্যাচে লিওনের বিপক্ষে খেলার জন্য আবারও দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। কঠিন এই সময়ে মেসির এমন পেশাদারিত্ব এবং দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিতে বিস্মিত ক্যাসেমিরো।

মেসির প্রসঙ্গে ক্যাসেমিরো বলেন, ‘অবশ্যই, সে একটি উদাহরণ। কারণ দিনের শেষে সে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ক্লাবের প্রতিও তার যে দায়বদ্ধতা, তা অসাধারণ। আমি জীবনে এর আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি।’

ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শুধু তাকে ধন্যবাদ বলতে পারি। এখানে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আমরা জানি, সে আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। কিন্তু আমাদের এবং ক্লাবের প্রতি তার যে দায়বদ্ধতা, সেটি প্রশংসা ও সমর্থন করার মতো।’

মেসি ব্যক্তিগতভাবে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সেটি বুঝতে সতীর্থদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ক্যাসেমিরো বলেন, ‘সে জানে তার জীবনে কী চলছে। কিন্তু আমাদের তাকে ধন্যবাদ বলতে হবে- এখানে আসার জন্য, আমাদের সাহায্য করার জন্য এবং ক্লাবকে সাহায্য করার জন্য। আমাদের প্রতি সে যে দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। আমাদের তাকে সমর্থন করে যেতে হবে।’

শুধু মেসি নয়, তার পরিবারের প্রতিও ভালোবাসা ও সমর্থন জানিয়েছেন ক্যাসেমিরো। তিনি বলেন, ‘আমি তার পরিবারকে অনেক ভালোবাসা পাঠাতে চাই। আমার মনে হয়, তাকে নিজের সময় অনুযায়ী এই কঠিন সময় পার করতে হবে। কিন্তু আমরা শুধু বলতে পারি, আমাদের হৃদয়ের গভীর থেকে তাকে ধন্যবাদ- আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য।’

ড্রেসিংরুমে মেসিকে দেখার অনুভূতিও তুলে ধরেন ক্যাসেমিরো। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই, ড্রেসিংরুমে যখন আমি লিওকে দেখি, তখন ভালো লাগে। কিন্তু তার দায়বদ্ধতা আমাকে নিঃসন্দেহে খুব অবাক করেছে।’

মেসির এই মানসিক শক্তিই তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বানিয়েছে বলে মনে করেন ক্যাসেমিরো। তিনি বলেন, ‘দিনের শেষে এটা আপনাকে ভাবায়- এই কারণেই সে এত মহান, এই কারণেই সে ইতিহাসের অন্যতম সেরা। সে বারবার দেখিয়ে যাচ্ছে কেন সে সেরাদের একজন। আমার কাছে তার প্রতি টুপি খোলা, তাকে ধন্যবাদ জানানো, তাকে সমর্থন করে যাওয়া এবং তাকে ও তার পরিবারকে শক্তি কামনা করাই যথেষ্ট।’

তবে মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকেও ইন্টার মায়ামির উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন ক্যাসেমিরো। বিশেষ করে রক্ষণভাগে আরও সংগঠিত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

‘অবশ্যই আমাদের উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে রক্ষণভাগ নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে ফুটবল হলো সবাই মিলে আক্রমণ করা এবং সবাই মিলে রক্ষণ সামলানো। শুধু রক্ষণভাগের বিষয় নয়, আমরা জানি আমাদের উন্নতি করতে হবে। আমরা সেটি নিয়েই কাজ করছি। রাতারাতি উন্নতি করা যায় না, কিন্তু আমাদের আরও ভালো হতে হবে। সবাই রক্ষণ করবে, সবাই আক্রমণ করবে- একটি দল এমনই হওয়া উচিত,’ বলেন তিনি।

ইন্টার মিয়ামির লক্ষ্য নিয়েও কোনো সংশয় নেই ক্যাসেমিরোর। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় শীর্ষে থাকার এবং জয়ের মানসিকতাই ক্লাবটির পরিচয় বলে মনে করেন তিনি।

ক্যাসেমিরো বলেন, ‘ইন্টার মিয়ামির সবসময়ই বড় লক্ষ্য থাকে। আমরা লিগের পয়েন্ট টেবিলের দিকে নজর রাখছি। এখানে আসা সব খেলোয়াড়ের মধ্যেই সবসময় জয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল। হোর্হে এবং তার পরিবারও আমাদের মধ্যে এই মানসিকতা তৈরি করেছেন- আমাদের সবসময় জয়ের জন্য লড়তে হবে।’

হার কিংবা কোনো প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়ার কষ্টও ইন্টার মিয়ামির উচ্চাকাঙ্ক্ষার অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ‘আপনি যখন হারবেন বা কোনো প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বেন, তখন কষ্ট হবেই। কারণ ইন্টার মায়ামি সবসময় জয়ের দাবি রাখে। সেটি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এখানে যারা আসে, সবাই আমাদের হারাতে চায়। তাই জিততে হলে আমাদের সবসময় আরও ভালো করতে হবে।’

শেষে ইন্টার মিয়ামির উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাই আবারও তুলে ধরেন ক্যাসেমিরো। তার মতে, ‘ইন্টার মায়ামি সবসময় বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোয়। আর সে কারণেই এই ক্লাবে এই মানের খেলোয়াড়রা রয়েছে।’

Scroll to Top