
গত মৌসুমে বেশি সময় খেলার সুযোগ পাওয়ার আশায় বসুন্ধরা কিংস ছেড়ে আবাহনী লিমিটেডে যোগ দেন দেশের ফুটবলে তরুণ তারকা শেখ মোরছালিন। শোনা যাচ্ছিল, নতুন মৌসুমে থেকে যাবেন আবাহনীতেই। সেটাই হয়েছে। তাঁকে দলে ধরে রেখেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি ।
ক্লাবের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে গতকাল রাতে সমঝোতার পর চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় দলের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। আবাহনী ক্লাবের নবনিযুক্ত ম্যানেজার শহীদ হোসেন স্বপন প্রথম আলোকে আজ সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আগামী মৌসুমের জন্য অনূর্ধ্ব-২০ দলের পাঁচ খেলোয়াড়কে নিয়ে গতকাল রাতে ২২ জন ফুটবলারকে চূড়ান্ত করেছে ধানমন্ডির ক্লাবটি। চুক্তিপত্রে সইয়ের কাজও সেরে নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তালিকার ১৭ জনই আবাহনীর গত মৌসুমের খেলোয়াড়।
মোরছালিনের চুক্তির বিষয়ে সূত্রের দাবি, কোনো রকম দীর্ঘ দর–কষাকষি ছাড়াই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ‘মোরছালিন অতিরিক্ত কোনো দর–কষাকষি করেনি। সুন্দরভাবেই সব হয়েছে।’ বলেছেন এক কর্মকর্তা। মোরছালিনের পারিশ্রমিকের অঙ্ক সেই কর্মকর্তা নিশ্চিত না করলেও তাঁর ধারণা, মোরছালিনের চুক্তি এক মৌসুমের জন্য ৪০ লাখ টাকার মতো।
দল গঠনে বড় তারকাদের যুক্ত করতে না পারার পেছনে আর্থিক সংকট ও ফিফার জরিমানাকে দায়ী করা করছেন আবাহনীর কর্মকর্তারা। ক্লাবটির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাবের সাবেক বিদেশি খেলোয়াড়ের বকেয়াসংক্রান্ত মামলার কারণে আবাহনীকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ডলার করে পরিশোধ করতে হবে।
ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম গত রাতের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এক দিন সময় নিয়েছেন। বসুন্ধরা কিংস থেকে তাঁর প্রস্তাব আছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে থাকায় কাল সই করতে পারেননি গোলকিপার মিতুল মারমা। সবকিছু ঠিক থাকলে বা শেষ সময়ে নাটকীয় কিছু না ঘটলে আজ মিতুলের সই করার কথা। তবে এরই মধ্যে আবাহনী ছেড়েছেন সুশান্ত ত্রিপুরা, আলমগীর মোল্লা, সুলেমান দিয়াবাতে ও এনামুল গাজী।
অন্য ক্লাব থেকে কোনো খেলোয়াড় এখনো নিতে পারেনি আবাহনী। গত সোমবার দলবদলে ফিফার তৃতীয় ও শেষ নিষেধাজ্ঞাটি ওঠার পর দল গঠনের আনুষ্ঠানিকতায় নেমে আবাহনী বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে। পছন্দের অন্য ক্লাবের খেলোয়াড়েরা সই করে ফেলেছেন। তাই দল গঠনে গত মৌসুমের অভিজ্ঞতার ওপরই মূলত ভরসা রাখা হচ্ছে।

দল গঠনে বড় তারকাদের যুক্ত করতে না পারার পেছনে আর্থিক সংকট ও ফিফার জরিমানাকে দায়ী করা করছেন আবাহনীর কর্মকর্তারা। ক্লাবটির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাবের সাবেক বিদেশি খেলোয়াড়ের বকেয়াসংক্রান্ত মামলার কারণে আবাহনীকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ডলার করে পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে বিদেশি ফুটবলারের জরিমানার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ঘরোয়া বাজেটে প্রভাব পড়েছে। ২০২৪-এ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের না আনায় আবাহনীতে বিরাট অঙ্ক গচ্চা দিতে হয়েছে এবং যার জের কিস্তিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানতে হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
তারপরও আবাহনী এই সংকট থেকে আপাতত বেরিয়ে এসেছে। গত মৌসুমের পুরোনো খেলোয়াড়দের বকেয়া প্রায় ১৮ লাখ টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী রোববার খেলোয়াড়দের চেক দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত দল গঠনসংক্রান্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। সঙ্গে টানা তৃতীয় মৌসুমের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত মারুফুল হক, নবনিযুক্ত ম্যানেজার শহীদ হোসেন স্বপন ও আরও একজন কর্মকর্তা।

দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ম্যানেজার স্বপন বলেন, ‘মোটামুটি পুরোনো দল নিয়েই আমরা এবার মাঠে নামব। নতুন খেলোয়াড় সেভাবে পাওয়া যায়নি। পুরোনো যে কম্বিনেশন ছিল, সেটি দিয়েই ঘরোয়া মৌসুমে দল পরিচালনা করতে হবে।’
বিদেশি ফুটবলারদের বিষয়ে স্বপন জানান, ক্লাবের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে বিদেশি সংগ্রহের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।